কৃষি মন্ত্রণালয়াধীন BMDA এর Dugwell project এর জাল জালিয়াতি, অনিয়ম, টেন্ডার বাণিজ্য
নিজস্ব প্রতিবেদক

বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কতৃপক্ষ রাজশাহী কৃষি মন্ত্রণালয়ের BMDA এর Dugwell project এ সর্বনিম্ন দরদাতার প্রত্যায়ন পত্র জালসত্বেও কোটি টাকার কাজ পান। জানা যায় সৌর সেচ প্রকল্প বরেন্দ্র এলাকায় supply installation and commissioning of 30 meter head and 5 liter/ Second discharge of solar irrigation ac submersible pump with solar panels on turnkey basis in constructed Dugwell under DTIP -2. Total Quantity 20 sets. উক্ত কাজের জন্য রাজশাহী, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকার খালে ভূ- উপরিস্থ পানির সংরক্ষণ করে সেচ সুবিধা বর্ধিকরনে টেন্ডার আহ্বান করা হয়। যার টেন্ডার আই ডি নং ১১৩২৮৮, রেফারেন্স নং MBDA/DTIP-2/SOLAR-56/2017-18/870 তারিখ ২১/০৭/২০১৭ ইং ক্লোজিং ২৮/০৮/২০১৭ইং এ ক্ষেত্রে প্রকল্প পরিচালক ছিলেন, জনাব মোঃ আব্দুল লতিফ।
অনুরূপ আর একটি টেন্ডার হয়েছিল যার টেন্ডার আই ডি নং ১১৩৩৮৫, রেফারেন্স নং BMDA/RWC-11/goods/raj-58/2017-18 তারিখ ৩০/০৭/২০১৭ ইং, ক্লোজিং ৩০/০৮/২০১৭ ইং Total Quantity 8 sets. সে ক্ষেত্রে প্রকল্প পরিচালক ছিলেন সিব্বির আহম্মেদ। সংশ্লিষ্ট কাজের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কয়েকটি কোম্পানী উল্লেখিত টেন্ডারে অংশগ্রহণ করে। অংশগ্রহণকারী কোম্পানীগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন দরদাতা কোম্পানীর কাগজপত্রাদি যাচাই বাচাই না করেই কোটি কোটি টাকার কাজ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। পি,পি আর ২০০৮-এর নিয়মানুযায়ী টেন্ডার হলেও, অনিয়ম করে কোটি কোটি টাকার কাজ অযোগ্য প্রতিষ্ঠানকে যোগ সাজসের মাধ্যমে দেওয়া হয়। ধারণা করা হচ্ছে বড় অংকের ঘুষ লেনদেন করা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায় দর পত্রের সর্বনিম্ন দরদাতা, বেইস টেকনোলজিস লিমি: এর অভিজ্ঞতার সনদটি ভূয়া। ভূয়া সনদ সম্পর্কে প্রত্যয়নকারী কৃষিবিদ নির্মল কুমার দে (কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর, খামার বাড়ী, চুয়াডাঙ্গা)। বলেন, উপ পরিচালক ২০১৬ ইং সালের ১লা মার্চ থেকে শুরু হওয়া সি,এস আর প্রকল্প ১৫ ই মার্চ ২০১৭ ইং তারিখের শেষ হওয়া ,এমন কোন কাজের অভিজ্ঞতার সনদপত্রে আমি প্রত্যয়ন করি নাই। কেউ যদি করে থাকে, আমি ধরে নিবো, আমার সুনাম ক্ষুণœ করার জন্য প্রতারণার ফাঁদ পেতেছেন কে বা কারা আমি তাদেরকে চিনি না। তিনি আরোও বলেন সাদা কাগজে কম্পোজকৃত অভিজ্ঞতার সনদ হতে পারে না। যারা এহেন কাজ করেছে, তারা নেহাত অন্যায় কাজ করেছে। প্রত্যায়নকারী মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, কৃষি প্রকৌশলী, কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর , খামারবাড়ী, চুয়াডাঙ্গা কে সিলমোহর সংযুক্ত মোবাইল নম্বরে পাওয়া যায়নি। উল্লেখিত নম্বরে যাকে পাওয়া গেলো তিনি হলেন মোঃ রাশেদ, ঢাকায় থাকেন, গার্মেন্টেস এ চাকুরী করেন।
বেইস টেকনোলাজিস লিমি: কোম্পানীর অভিজ্ঞতার সনদটি ভূয়া তার আরোও প্রমান হলো ১লা মার্চ ২০১৬ হইতে ১৫ই মার্চ ২০১৭ইং যে কাজটি সম্পন্ন করেছিল। তার প্রাকলিত ব্যয় ছিল ২০,০০,০০০(বিশ লক্ষ) টাকা মাত্র। কিন্তু সনদে দেখাণো হয়েছে ৪২,০০,০০০ (বিয়াল্লিশ লক্ষ) টাকা মাত্র। আরো অসঙ্গতি হলো। প্রত্যায়ন পত্রটির উপরেল্লিখিত শিরোনাম যেখানে যাহার কাছে প্রযোজ্য।
সর্বশেষ মিথ্যা প্রমাণের আর একটি দৃষ্টান্ত হলো Dhaka Tribune পত্রিকায় ১২/০৮/২০১৭ইং তারিখে প্রকাশিত সংবাদে ছাপা হয়েছিল Corporate Sociai Responsibility Cost 20Lakh taka. (7.5 Horsepower Pump. চুয়াডাঙ্গা।
সরকারের আর্থসামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সুযোগে কিছু অসাধু দুর্নীতিপরায়ণ ব্যক্তিও প্রতিষ্ঠানের কারণে উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে। যোগ্যতার মাপকাঠি যাচাই না করেই প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে অযোগ্য প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিয়ে (ঘুষের বিনিময়ে) কোটিপতি বনে যাচ্ছে। কতিপয় দুর্নীতি পরায়ন কর্মকর্তারা তাদেরকে ধরার কেউ নাই।
উল্লেখ্য যে, সরকার বিদ্যুতের ঘাটতি পূরণ কল্পে সৌর সেচপ্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষে এগিয়ে যাচ্ছে। তারই ফলশ্রুতিতে অনিয়মের তুঘলকী কারবার করে যাচ্ছে এক শ্রেনীর অযোগ্য প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিবর্গরা। এতে সরকারের ভাবমুর্তির ক্ষতি হচ্ছে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ বির্নিমানে বাধাগ্রস্ত করছে।
বি, এম, ডি,এ র Dugwell Project এর P D (Project Director) মোঃ সিব্বির আহম্মেদ ও মোঃ আব্দুল লতিফ বলেন: আমাদের প্রকল্পের কোনো রকম অনিয়ম দুর্নীতি হয় নাই। আমরা সঠিক ভাবে যাচাই বাচাই করে সর্বনিম্ন দরদাতা কে কাজ দিয়েছি। আপনার কোনো কিছু জানার থাকলে নির্বাহী পরিচালকের সঙ্গে কথা বলেন। এই ব্যাপারে আমরা কিছু বলতে পারবো না। এদিকে নির্বাহী পরিচালকের সাথে প্রকল্পে দুর্নীতির ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রকল্প পরিচালকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। টেন্ডারে অংশ গ্রহণকারীদের সমস্ত কাগজপত্রাদি সঠিক ভাবে যাচাই বাচাই করতে বলা হয়েছে। এর পরেও যদি কোন অসংলগ্ন/ অসঙ্গতি পাওয়া যায়, তাহলে ভুয়া/দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে নিময়মানুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।